নতুন বাড়ি কিনছেন? বাস্তুর এই ৫ ভুল ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ!

বর্তমান ডেস্কঃ

একটি সুন্দর বাড়ি মানেই কেবল ইট-পাথরের দেওয়াল নয়, এটি হলো স্বপ্ন আর পারিবারিক শান্তির নীড়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও নতুন বাড়িতে ওঠার পর মানসিক অস্থিরতা, শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক অনটন দেখা দেয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হতে পারে গৃহনির্মাণে বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম না মানা। ঘর কেনার সময় সাধারণত ৫টি বড় ভুল মানুষ করে থাকে, যা সঠিক পদ্ধতি জানলে সহজেই এড়ানো সম্ভব।

প্রধান প্রবেশদ্বারের ভুল অবস্থান

বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়, কারণ এখান দিয়েই ঘরে ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করে। বাড়ির সদর দরজা সবসময় উত্তর বা পূর্ব দিকে হওয়া শুভ। এই দিকগুলো পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি আনে। অন্যদিকে, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার পারিবারিক কলহ ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনার বাড়ির দরজা ভুল দিকে থাকে, তবে দরজার ফ্রেমে বাস্তু পট্টি লাগানো বা দরজার সামনে স্বস্তিক ও ওম চিহ্ন ব্যবহার করলে নেতিবাচক প্রভাব কমে।

উত্তর-পূর্ব কোণে শৌচাগার

বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিককে অত্যন্ত পবিত্র এবং জ্ঞানের স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কোণে শৌচাগার থাকলে ঘরের পজিটিভ এনার্জি নষ্ট হয়। যদি শৌচাগারটি আগে থেকেই সেই স্থানে নির্মিত থাকে, তবে সেখানে সামুদ্রিক লবণ ভর্তি একটি বাটি রেখে বা প্রবেশদ্বারে বাস্তু পিরামিড লাগিয়ে অশুভ প্রভাব কমানো যেতে পারে। এছাড়া বাথরুম সবসময় পরিষ্কার রাখা এবং ভেন্টিলেশন সচল রাখা জরুরি।

ভুল স্থানে রান্নাঘর স্থাপন

রান্নাঘর হলো আগুনের আধার। বাস্তু অনুযায়ী, রান্নাঘরের আদর্শ স্থান হলো বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণ বা অগ্নিকোণ। উত্তর বা উত্তর-পূর্ব কোণে রান্নাঘর থাকলে বাড়ির সদস্যদের বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিকার হিসেবে রান্নাঘরের দেওয়ালে লাল বা কমলা রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে এবং রান্নার সময় যেন মুখ দক্ষিণ দিকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

বাড়ির মাঝখানে সিঁড়ির অবস্থান

বাড়ির ঠিক মাঝখানের অংশটিকে বলা হয় ‘ব্রহ্মস্থান’। এই স্থানটি সবসময় ফাঁকা এবং পরিষ্কার রাখা উচিত। মাঝখানে সিঁড়ি বা ভারী কোনো আসবাব থাকলে ঘরে শক্তির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা সমাধানে সিঁড়ির পাশে দর্পণ ব্যবহার করে শক্তির প্রতিফলন ঘটানো যেতে পারে। এছাড়া তামা বা পিতলের পিরামিড স্থাপন করেও এই বাস্তু দোষ কাটানো সম্ভব।

জমির ভুল আকৃতি ও গুণমান

বাড়ি তৈরির জন্য বর্গাকার বা আয়তাকার জমি সবচেয়ে ভালো। অনেক সময় আমরা সস্তায় অনিয়মিত আকৃতির বা কোণ কাটা জমি কিনে ফেলি, যা জীবনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কাটা অংশ আছে এমন জমি এড়িয়ে চলাই ভালো। সঠিক আকৃতির জমি শক্তির সঠিক সঞ্চালন নিশ্চিত করে এবং জীবনে স্থিতিশীলতা আনে।

এক নজরে

  • বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার উত্তর বা পূর্ব দিকে হওয়া সবথেকে ভালো।
  • দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রান্নাঘর থাকলে স্বাস্থ্য ও মন ভালো থাকে।
  • উত্তর-পূর্ব দিকে শৌচাগার নির্মাণ বাস্তু মতে বড় দোষ হিসেবে গণ্য হয়।
  • বাড়ির ব্রহ্মস্থান বা কেন্দ্রস্থল সবসময় ফাঁকা ও ভারমুক্ত রাখুন।
  • ঘর কেনার আগে জমির আকৃতি বর্গাকার কি না তা নিশ্চিত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *