১৩ বছরের শিশুর বিয়ে বৈধ! পাক আদালতের রায়ে তোলপাড় বিশ্ব।

১৩ বছরের শিশুর বিয়ে বৈধ! পাক আদালতের রায়ে তোলপাড় বিশ্ব।

বর্তমান ডেস্কঃ

পাকিস্তানের করাচি শহরের ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়েকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে। মারিয়া শাহবাজ নামের ওই কিশোরীর অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ থাকলেও আদালত তার কথিত অপহরণকারীদের সাথে বিয়েকে সঠিক ঘোষণা করায় দেশটির খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

আদালতের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে করাচির সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথেড্রালে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। করাচি ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস এবং ক্যাথলিক কমিশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস-এর আয়োজনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার সংকট

বিক্ষোভকারীরা ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধ করো’, ‘খ্রিষ্টান মেয়েদের বিচার চাই’ এবং ‘বাল্যবিবাহ অপরাধ’ লেখা সংবলিত পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের মতে, আদালতের এই রায় ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিরাপত্তাবোধ তৈরি করেছে। তারা মনে করেন, এমন রায় জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বাল্যবিবাহের মতো ঘটনাগুলোকে উসকে দিচ্ছে।

করাচির আর্চবিশপ বেনি মারিও ট্রাভাস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সম্প্রদায়ের দুঃখ এবং ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমাজের অসহায় ও দুর্বল শ্রেণির সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য, কিন্তু বর্তমান আইনি পরিস্থিতিতে তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সামাজিক ও আইনি বৈষম্যের চিত্র

প্রতিবাদ সভায় উঠে আসে যে, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কারণে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো প্রায়শই শোষণের শিকার হয়। আইনি সুরক্ষা যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শিক্ষা এবং সামাজিক সংহতিই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। ক্যাথলিক কমিশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস-এর সমন্বয়ক কাশিফ অ্যান্থনি বলেন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বাল্যবিবাহ কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা নয়, এটি সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।

আইনজীবী ইউনুস এস খান এবং সামাজিক কর্মী সাফিনা জাভেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই রায়ের সমালোচনা করে জানান, কিশোরীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তানে আরও কঠোর আইনের প্রয়োজন। তারা মানবাধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই রায়কে কোনোভাবেই নজির হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়া হয় এবং এর আইনি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা হয়।

এক নজরে

  • ঘটনা: ১৩ বছরের কিশোরী মারিয়া শাহবাজের বিয়েকে বৈধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের আদালত।
  • অবস্থান: করাচি, পাকিস্তান।
  • আন্দোলনকারী: করাচির খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার কর্মীরা।
  • মূল অভিযোগ: জোরপূর্বক ধর্মান্তর, অপহরণ এবং বাল্যবিবাহকে আইনি বৈধতা দান।
  • দাবি: আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনা এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *