২০ বছরের সংসার আর ৬ সন্তান! তবুও বেসমেন্টের সেই গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে ছিল পৈশাচিক সত্য!

বর্তমান ডেস্কঃ

নিউ ইয়র্কের একটি সাজানো গোছানো সংসার। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এক আদর্শ পরিবার। ডোনিয়েল শভ এবং চ্যাড শিপার দম্পতির ২০ বছরের দাম্পত্য জীবন, ছয় সন্তান এবং অগাধ ধর্মীয় বিশ্বাস—সব মিলিয়ে এক সুখী গৃহকোণ। কিন্তু এই সাজানো আবরণের নিচেই লুকিয়ে ছিল এক বীভৎস সত্য, যা প্রকাশ পাওয়ায় স্তম্ভিত হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব।

বাইবেল স্টাডি থেকে শুরু হওয়া প্রেম ও পরিণয়

চ্যাড শিপার ও ডোনিয়েল শভের পরিচয় হয়েছিল একটি বাইবেল স্টাডি ক্লাসে। সেখান থেকেই প্রেম এবং পরবর্তীতে বিয়ে। দীর্ঘ ২০ বছরের সংসারে চ্যাড নিজেকে একজন আদর্শ বাবা, যত্নশীল স্বামী এবং আধ্যাত্মিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি। কিন্তু এই মুখোশের আড়ালে যে এক অপরাধী লুকিয়ে আছে, তা ডোনিয়েল কল্পনাও করতে পারেননি।

সেফ রুমের আড়ালে টর্চার সেল

২০১৭ সালে চ্যাড শিপারের গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে তার ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের চিত্র। নিজ বাড়ির বেইজমেন্টে একটি গোপন কক্ষ তৈরি করেছিলেন চ্যাড। নিজের স্ত্রীকে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে, এটি পরিবারের সুরক্ষার জন্য একটি ‘সেফ রুম’ বা নিরাপদ কক্ষ। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

  • সাউন্ডপ্রুফ ব্যবস্থা: কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেন ভেতর থেকে কোনো চিৎকার বা শব্দ বাইরে না আসে।
  • অপহরণের আস্তানা: চ্যাড এই কক্ষটি আসলে ব্যবহার করতেন অপহৃত ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য।
  • নিষ্ঠুর নির্যাতন: ল্যারি এবং কনস্ট্যান্স ভ্যান ওস্টেন নামে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে অপহরণ করে চ্যাড এই অন্ধকার ঘরে ৪৮ ঘণ্টা আটকে রাখেন। তাদের হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে রাখা হয়েছিল।

ব্যবসায়িক লোকসান ও অপরাধের পথ

তদন্তে জানা যায়, চ্যাড শিপার তার ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে বিপুল ঋণে জর্জরিত ছিলেন। এই দেনা পরিশোধের জন্য তিনি সহজ পথ হিসেবে অপরাধকে বেছে নেন। অপহৃত বৃদ্ধ দম্পতিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ৩.৫ লাখ ডলার (প্রায় ৩ কোটি টাকা) বিমা দাবি করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের তৎপরতায় তিনি ধরা পড়েন।

আদালতের রায় ও বর্তমান অবস্থা

নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর আদালত চ্যাড শিপারকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে তিনি কারাগারেই তার সাজা ভোগ করছেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ডোনিয়েল একটি সাম্প্রতিক ডকুমেন্টারি সিরিজে তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যে মানুষটিকে তিনি সারাজীবন বিশ্বাস করেছেন, তার মধ্যে যে এমন এক দানব লুকিয়ে ছিল, তা ছিল তার চিন্তার বাইরে।

এক নজরে

  • ঘটনা: ২০ বছরের সংসার জীবনের আড়ালে স্বামীর ভয়ংকর অপরাধ।
  • প্রধান চরিত্র: চ্যাড শিপার (অপরাধী) এবং তার স্ত্রী ডোনিয়েল।
  • অপরাধ: অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ দম্পতিকে অপহরণ ও গোপন কক্ষে বন্দি রাখা।
  • গোপন আস্তানা: বাড়ির বেইজমেন্টে নির্মিত সাউন্ডপ্রুফ ‘টর্চার সেল’।
  • শাস্তি: ৬০ বছরের কারাদণ্ড।
  • কারণ: ব্যবসায়িক ঋণ পরিশোধের জন্য মুক্তিপণ আদায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *