কোটায় আচ্ছন্ন স্বামীর শুক্রাণু চাই! মা হওয়ার আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী
বর্তমান ডেস্কঃ
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতি এখন আসাম্ভবকেও সম্ভব করে তুলছে। সম্প্রতি দিল্লির এক নারী তার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকা স্বামীর শরীর থেকে স্পর্ম (শুক্রাণু) সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে আইসিইউ-তে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা স্বামীর অংশ থেকে ভবিষ্যতে মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় এই আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি। এই ঘটনাটি একদিকে যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক জটিল দিক উন্মোচন করেছে, অন্যদিকে জন্ম দিয়েছে গভীর আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের।
স্পর্ম রিট্রিভাল বা শুক্রাণু সংগ্রহের বিজ্ঞান
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পদ্ধতিটি সার্জিক্যাল স্পর্ম কালেকশন বা এক্সট্রাকশন নামে পরিচিত। সাধারণত দুই উপায়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়:
১. পেসা (PESA): এটি একটি সূক্ষ্ম সূঁচের সাহায্যে অণ্ডকোষের উপরের নালী থেকে শুক্রাণু সংগ্রহের পদ্ধতি।
২. টেসা (TESA): এই পদ্ধতিতে সরাসরি অণ্ডকোষের টিস্যু থেকে অ্যানেশথিয়ার মাধ্যমে শুক্রাণু বের করে আনা হয়।
আইভিএফ (IVF) বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগৃহীত এই শুক্রাণু ল্যাবরেটরিতে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জমাটবদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা যায়। পরবর্তীকালে কৃত্রিম প্রজনন বা আইভিএফ প্রক্রিয়ায় এই শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণ সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, রোগী কোমায় থাকলেও তার শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট হয় না।
ব্যয়ভার ও আর্থিক দিক
ভারতে এই প্রক্রিয়ার খরচ নির্ভর করে পদ্ধতির জটিলতার ওপর। সাধারণ পেসা বা টেসা পদ্ধতির খরচ সাধারণত ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে যদি মাইক্রো-টেস (Micro-TESE)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়, তবে সেই খরচ ১.২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সাথে হাসপাতালের চার্জ ও সার্জনের ফি যুক্ত হয়।
আইনি জটিলতা ও নৈতিক প্রশ্ন
প্রযুক্তিগতভাবে এটি সম্ভব হলেও ২০২১ সালের বর্তমান প্রজনন আইন অনুযায়ী, স্পর্ম ব্যবহারের জন্য স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক। এই ক্ষেত্রে স্বামী কোমায় থাকায় তার সরাসরি সম্মতি পাওয়া আসাম্ভব। ফলে আদালতের রায়ই এখন একমাত্র ভরসা। আবেদনকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে স্বামীর শারীরিক অবস্থা যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির জন্য একটি আইনি নজির তৈরি করতে পারে।
এক নজরে
- বিষয়: কোমায় থাকা স্বামীর শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহের আবেদন।
- প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি।
- পদ্ধতি: পেসা (PESA) এবং টেসা (TESA) প্রযুক্তি।
- খরচ: ২৫,০০০ টাকা থেকে ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- প্রধান বাধা: ২০২১ সালের আইন অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতির আবশ্যকতা।
- বর্তমান অবস্থা: দিল্লি হাইকোর্টে বিচারধীন ও মেডিকেল বোর্ডের মতামতের অপেক্ষা।