মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ১৮ মাসের শিশু, অসাধ্য সাধনে নজির কলকাতার হাসপাতালের!

বর্তমান ডেস্কঃ

শহরের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক অনন্য মাইলফলক তৈরি করল কলকাতার একটি বেসরকারি হার্ট হাসপাতাল। মাত্র ১৮ মাসের এক শিশুকন্যার শরীরে ধরা পড়া বিরল ও অত্যন্ত জটিল জন্মগত হৃদরোগ সারিয়ে তাকে সুস্থ জীবনের পথ দেখালেন চিকিৎসকরা। ‘সিঙ্গল ভেন্ট্রিকল হার্ট ডিফেক্ট’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যার সমাধানে হাসপাতালের এই সাফল্য পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

হৃদযন্ত্রের গঠনগত জটিলতা ও প্রাণের ঝুঁকি

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি যখন বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়, তখন তার শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ বা তার বেশি থাকে, সেখানে এই একরত্তির শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল মাত্র ৬০–৬৫ শতাংশ।

এর পাশাপাশি শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ৭.৫ কেজি, যা তার বয়সের তুলনায় অনেকটাই কম। মূলত ‘সিঙ্গল ভেন্ট্রিকল হার্ট ডিফেক্ট’ নামক সমস্যার কারণে তার হৃদযন্ত্রের দুটি পাম্পিং চেম্বারের পরিবর্তে মাত্র একটি নিলয় কার্যকর ছিল। ফলে শরীরে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছিল, যা তাকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছিল।

কেন চ্যালেঞ্জিং ছিল এই অস্ত্রোপচার

সার্জন কুন্তল রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এই অত্যন্ত ‘হাই রিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশন টেবিলের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো ছিল:

  • ফুসফুসের সচলতা: বড়দের অস্ত্রোপচারের সময় একটি ফুসফুস সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা গেলেও এই শিশুর ক্ষেত্রে তা সম্ভব ছিল না। অস্ত্রোপচার চলাকালীন দুটি ফুসফুসই সচল রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
  • সমন্বয় ও দক্ষতা: সার্জেন, অ্যানাস্থেটিস্ট এবং পারফিউশনিস্টদের মধ্যে সূক্ষ্ম গাণিতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল যাতে অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • শারীরিক সীমাবদ্ধতা: কম ওজনের কারণে শিশুটির অ্যানাস্থেশিয়া নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরবর্তী ধকল সহ্য করার শক্তি ছিল সীমিত।

চিকিৎসার ভবিষ্যৎ ও প্রভাব

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সফল অস্ত্রোপচারটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। সিঙ্গল ভেন্ট্রিকল সমস্যার ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেশন করতে হয়। বর্তমান অস্ত্রোপচারের সাফল্য শিশুটির ভবিষ্যতের চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করেছে। হাসপাতালের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করল যে, সঠিক পরিকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিপুণ সমন্বয়ে আসাম্ভবকেও সম্ভব করা সম্ভব। আপাতত শিশুটি বিপন্মুক্ত এবং সুস্থতার পথে।

একঝলকে

  • রোগীর বয়স: ১৮ মাস।
  • সমস্যা: সিঙ্গল ভেন্ট্রিকল হার্ট ডিফেক্ট (জন্মগত ত্রুটি)।
  • অক্সিজেনের মাত্রা: ৬০–৬৫ শতাংশ (স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম)।
  • অন্যতম চ্যালেঞ্জ: শিশুর ওজন ছিল মাত্র ৭.৫ কেজি।
  • সাফল্য: দুই ফুসফুস সচল রেখেই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন।
  • চিকিৎসক: পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জেন কুন্তল রায়চৌধুরী ও তাঁর টিম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *