৩০ লাখে নিটের প্রশ্ন কেনা দুই ভাই গ্রেফতার, জালে গুরুগ্রামের চিকিৎসক ও আন্তঃরাজ্য চক্র
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমে রাজস্থানের জামওয়া রামগড় থেকে মাঙ্গিলাল এবং দিনেশ বিওয়াল নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগেই গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্রটি কিনেছিলেন তাঁরা। ধৃতদের মধ্যে দিনেশ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্ন ফাঁসের জাল
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিশাল নেটওয়ার্কের নাম। রাজস্থানের সিকরকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি কাজ করছিল। ২৬ এপ্রিল প্রশ্নটি হাতে পাওয়ার পর মাঙ্গিলাল তা তাঁর ছেলেকে দেন, যিনি সিকরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর সেই প্রশ্ন ২৯ এপ্রিল চড়া দামে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সিকরের এক এমবিবিএস কাউন্সেলিং এজেন্ট রাকেশ কুমার মাণ্ডওয়ারিয়ার মাধ্যমে এই প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের সাহায্যে জম্মু-কাশ্মীর, বিহার, কেরল ও উত্তরাখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, রাকেশ একাই প্রায় ৭০০ জন পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিলেন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য উৎস
পুলিশের অনুমান, এই ফাঁসের মূল উৎস মহারাষ্ট্রের নাসিকের কোনো প্রিন্টিং প্রেস। সেখান থেকেই প্রশ্নটি গুরুগ্রামের ওই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছয়। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) জানিয়েছে, পরীক্ষার আগে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘গেজ পেপার’-এর ১২০টি প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রের সাথে হুবহু মিলে গিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করেছে এবং তদন্তের ভার তুলে দিয়েছে সিবিআই-এর হাতে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনায় দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে এনটিএ-র স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেক পড়ুয়াই এখন এই পরীক্ষাটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর তত্ত্বাবধানে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সিবিআই বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার মামলা রুজু করে মূল হোতাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।