অবৈধ টোল প্লাজা বন্ধে রাজ্য সরকারের চরম হুঁশিয়ারি
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুমোদনহীনভাবে গজিয়ে ওঠা টোল গেট ও ড্রপ গেটগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের কোথাও কোনো বেআইনি টোল প্লাজা রাখা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠছিল, তার স্থায়ী সমাধানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ
রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসককে নিজ নিজ এলাকার অননুমোদিত টোল পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, যেসব গেট বা ব্যারিকেডের বৈধ অনুমোদন নেই, সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোনো বেআইনি গেট তৈরি হতে না পারে, তার ওপর কড়া নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। অননুমোদিত পয়েন্ট থেকে কোনো প্রকার ফি বা চার্জ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নজরদারিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
শুধুমাত্র অবৈধ গেট বন্ধ করাই নয়, বৈধ টোল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা আনতে চায় রাজ্য। বর্তমানে কোন কোন সংস্থা টোল আদায় করছে, তাদের টেন্ডারের মেয়াদ কতদিন এবং কোন সরকারি আদেশের ভিত্তিতে তারা কাজ করছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে অনুমোদিত ও অননুমোদিত সকল টোল প্লাজার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনিক সতর্কতা
সরকারের এই নির্দেশের ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত চাঁদাবাজি রুখতে এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে শৃঙ্খলা আনতেই এই পদক্ষেপ। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো প্রকার গাফিলতি বা অনীহা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক তৎপরতা ও দায়বদ্ধতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।