১৬ বছর পর লস্কর কম্যান্ডার গ্রেপ্তার ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কে পুলিশের বড় সাফল্য
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে ধরা পড়ল লস্কর-ই-তৈবার দুর্ধর্ষ কম্যান্ডার আবদুল্লা ওরফে আবু হুরাইরা। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর যৌথ অভিযানে হুরাইরাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানকে উপত্যকার জঙ্গি নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যৌথ অভিযান ও গ্রেপ্তারির প্রেক্ষাপট
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত তিন সপ্তাহ ধরে একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গি আস্তানায় তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও রাজস্থান এবং হরিয়ানার প্রায় ১৯টি স্থানে টানা ১৫ দিন ধরে চলে এই চিরুনি তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের মালেরকোটলা এলাকা থেকে আবু হুরাইরা এবং উসমান ওরফে খুবাইব নামে দুই পাকিস্তানি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে শ্রীনগরের বাসিন্দা তিন কাশ্মীরি সহযোগী—মহম্মদ নাকিব ভাট, আদিল রশিদ ভাট এবং গুলাম মহম্মদ মিরকেও জালে তোলা হয়েছে।
ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কে বড় আঘাত
তদন্তকারীদের দাবি, এই গ্রেপ্তারি আদতে জঙ্গি গোষ্ঠীর ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (ওজিডব্লিউ) নেটওয়ার্কের ওপর এক বিশাল আঘাত। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা মূলত জঙ্গিদের থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের রসদ জোগায়। হুরাইরার তৈরি করা এই চক্রটি কেবল জম্মু-কাশ্মীরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতেও এর ডালপালা বিস্তার করেছিল।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
- অনুপ্রবেশের ইতিহাস: পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল হুরাইরা। দীর্ঘ সময় উপত্যকায় নেটওয়ার্ক মজবুত করার পর সে হঠাৎ আত্মগোপন করে। পরে পাঞ্জাবে নতুন পরিচয় নিয়ে বসবাস শুরু করেছিল।
- বিপজ্জনক প্রভাব: গত ১৬ বছরে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ৪০ জন পাক জঙ্গি কম্যান্ডারকে ভারতে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও তাদের অধিকাংশকেই নিরাপত্তা বাহিনী ইতিপূর্বে নিকেশ করেছে।
- নকল নথি ও পলায়ন: সম্প্রতি এই চক্রের সাহায্যেই ভুয়া নথি তৈরি করে লস্করের এক শীর্ষ কম্যান্ডার ভারত ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এই কাজে রাজস্থানে সক্রিয় ওজিডব্লিউ সদস্যরা সরাসরি যুক্ত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত
আবু হুরাইরার মতো একজন দীর্ঘস্থায়ী নেটওয়ার্ক পরিচালক গ্রেপ্তার হওয়ায় লস্করের লজিস্টিক সাপোর্টে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সমন্বয়ে চালানো এই অপারেশনটি প্রমাণ করে যে, আন্তঃরাজ্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংসে ভারতের গোয়েন্দা ও পুলিশি তৎপরতা কতটা সুসংহত হয়েছে।
একঝলকে
- লস্কর কম্যান্ডার আবু হুরাইরাসহ গ্রেপ্তার ৫।
- দীর্ঘ ১৬ বছর পর পাঞ্জাবের মালেরকোটলা থেকে ধৃত মূল অভিযুক্ত।
- গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২ জন পাকিস্তানি এবং ৩ জন কাশ্মীরি।
- রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার ১৯টি স্থানে টানা ১৫ দিন ধরে অভিযান।
- ধৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অতীতে ৪০ জন জঙ্গির অনুপ্রবেশের আশঙ্কা।
- ভুয়া নথি তৈরি করে জঙ্গি পারাপারে যুক্ত ছিল এই চক্র।
একঝলকে
- ১৬ বছর পর লস্কর কম্যান্ডার আবু হুরাইরাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার।
- ২ জন পাকিস্তানি এবং ৩ জন কাশ্মীরি নাগরিককে ধরা হয়েছে।
- পাঞ্জাব, রাজস্থান ও হরিয়ানার ১৯টি স্থানে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান।
- ৪টি রাজ্যে বিস্তৃত ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের ওপর বড় আঘাত।
- অতীতে ৪০ জন পাক জঙ্গিকে অনুপ্রবেশে সাহায্য করেছিল এই চক্র।