সীমান্তে জঙ্গি দমনে ভারতের পাশে ঢাকা দোভাল খলিলুর বৈঠকে বড় আশ্বাস
ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল ও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দিনের সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেই খলিলুর রহমান ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠীকে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান
বৈঠকে মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ইসলামি উগ্রবাদ মোকাবিলায় ঢাকার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
- উত্তর-পূর্বের বিদ্রোহীদের মদত বন্ধ: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো যেন বাংলাদেশে আশ্রয় বা কোনো ধরনের সহায়তা না পায়, সে বিষয়ে দোভালকে আশ্বস্ত করেছেন খলিলুর রহমান।
- আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমন: সম্প্রতি ভারতে ধরা পড়া পাকিস্তানি জঙ্গিদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের ছক কষছিল। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।
সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যু
অজিত দোভাল ও খলিলুর রহমানের এই ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্কের রসায়নকে কাজে লাগিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে।
- হিন্দুদের নিরাপত্তা: বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করলে খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পূর্বের ন্যায় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না।
- পানিবণ্টন ও বাণিজ্য: সফরের দ্বিতীয় দিনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে গঙ্গা ও তিস্তার জলবন্টন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। একদিকে চীন-পাকিস্তানের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে দিল্লির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
একঝলকে
- উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের আর আশ্রয় বা মদত দেবে না ঢাকা।
- বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে ভারতে নাশকতা চালানো ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার।
- হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারতকে আশ্বাস।
- গঙ্গা ও তিস্তার জলবন্টন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা।
- ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মরিশাস যাবেন।