‘হার-জিত আছেই, বিধায়ক হিসেবে আসব’, পরাজয়ের পরদিনই বিধানসভার অফিস ছাড়লেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মঙ্গলবার এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সোমবারের নির্বাচনী ফলাফলে ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি ক্ষমতা দখল করার পরদিনেই নিজের দপ্তর খালি করলেন বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামলানো স্পিকারের পদ ছেড়ে এদিন নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ছবি গুছিয়ে নিয়ে বিধানসভা চত্বর ত্যাগ করেন তিনি।
পরাজয়ের গ্লানি সরিয়ে সৌজন্যের বার্তা
মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই বিধানসভায় উপস্থিত হন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগমনে দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা জমায়েত হলে তিনি সকলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। তৃণমূলের ভরাডুবির পর নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি তড়িঘড়ি অফিস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বেরনোর সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভোটের ময়দানে হার-জিত আছেই। তবে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসব।” দীর্ঘদিনের চেনা চত্বর ছাড়ার সময় তাঁর গলায় ছিল লড়াইয়ের মানসিকতা এবং গণতান্ত্রিক রীতির প্রতি শ্রদ্ধা।
শাসক থেকে বিরোধী আসনে বিবর্তন
২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথমবার স্পিকারের আসনে বসেছিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এবারও নিজের কেন্দ্রে জয়ী হলেও রাজ্যজুড়ে তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ায় চতুর্থবারের মতো স্পিকার হওয়ার সুযোগ হারালেন তিনি। এবার তাঁকে দেখা যাবে বিরোধী বেঞ্চে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ইঙ্গিত
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দ্রুত পদত্যাগ এবং অফিস খালি করার ঘটনাটি সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দল হিসেবে তৃণমূলের পরাজয়ের পর নতুন সরকারের জন্য স্পিকারের পদটি ছেড়ে দিয়ে তিনি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পথ প্রশস্ত করলেন। এর ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে, যেখানে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যাবে।