পিতৃবিয়োগের পর রাজনীতির ময়দানেও বড় ধাক্কা! রাজগঞ্জে হারের পর কী সাফাই দিলেন স্বপ্না বর্মন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। নীল-সাদা শিবিরের মহাপতনের আবহে উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রেও দেখা গেল উলটপুরাণ। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনী ময়দানে নামা এশীয় গেমস সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে ২১,৪৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকার। রাজনীতির ট্র্যাকে স্বপ্নার এই ব্যর্থতা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।

ভোটের ময়দানে বাধা ও অন্তর্কোন্দল

নির্বাচনের ঠিক আগেই রাজনীতিতে স্বপ্নার পদার্পণ ছিল বড় চমক। তবে তাঁর প্রার্থীপদ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছিল অসন্তোষ। রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের প্রকাশ্য উষ্মা দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছিল। এর পাশাপাশি গত ২১ মার্চ পিতৃবিয়োগের শোক কাটিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো স্বপ্নার জন্য ছিল পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। রেলের কর্মীর পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে আইনি কাঠখড় পুড়িয়ে ময়দানে নামলেও, শেষ রক্ষা হল না। মূলত সংগঠনের ফাটল এবং বিদায়ী বিধায়কের অনুগামীদের ক্ষোভ এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

গণনাকেন্দ্র থেকে ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার আগেই হতাশায় বেরিয়ে যান স্বপ্না। পরাজয় প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কেবল জানান যে, জয়-পরাজয় খেলারই অংশ এবং জনগণের রায় শিরোধার্য। তবে হারের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্নের মুখে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকেই ইঙ্গিত করছে। তৃণমূল সরকারের এই ভরাডুবির পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য আরও শক্তিশালী হল। একজন আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট হয়েও রাজনীতির ট্র্যাকে হোঁচট খাওয়ার ফলে স্বপ্নার ক্রীড়া জীবন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—উভয় ক্ষেত্রেই এখন অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। রাজগঞ্জের এই ফল মূলত স্থানীয় উন্নয়ন ও দলের আদি-নব্য দ্বন্দ্বের প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *