স্মার্টফোনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে পাখির কলতান!
আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষে স্মার্টফোন নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও এর ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে জন্মহার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে স্মার্টফোন বা আইফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে বৈশ্বিক জন্মহার হ্রাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তি এবং বাস্তব সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়াকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জন্মহার হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমেরিকার ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চের তথ্যমতে, স্মার্টফোন জনপ্রিয় হওয়ার পর যেসব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বেশি, সেখানে কিশোরীদের সন্তান প্রসবের হার ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি দেখার প্রবণতা বেড়েছে, যা বাস্তব শারীরিক সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি রাতের বেলা সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে মোবাইল স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে মানুষের সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ বা আড্ডার সময় প্রায় ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং পর্দার সামনে সময় কাটানোর হার বেড়েছে ৩৩৬ শতাংশ। এছাড়া বর্তমানে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা ও গর্ভনিরোধক সংক্রান্ত তথ্য তরুণদের কাছে সহজে পৌঁছাচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে ভূমিকা রাখছে এবং সামগ্রিকভাবে জন্মহার হ্রাসে প্রভাব ফেলছে।