স্বাস্থ্য দপ্তরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, স্বস্তিতে দেবাশিসরা!
রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য: দুই চিকিৎসকের বদলির নির্দেশ খারিজ করল হাই কোর্ট, আন্দোলনকারীদের নৈতিক জয়
আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে চিকিৎসক আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি, চিকিৎসক দেবাশিস হালদার এবং আশফাকুল্লা নাইয়ারের শহরের বাইরে বদলির নির্দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁদের কলকাতা উচ্চ আদালতে দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের একক বেঞ্চ উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর স্বাস্থ্য দপ্তরের পূর্ববর্তী বদলির আদেশ সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়েছেন। এই রায়কে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দুই চিকিৎসক শহরের একটি মেডিকেল কলেজে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তর তাঁদের পূর্ব নির্ধারিত হাসপাতালের পরিবর্তে দূরের অন্য হাসপাতালে যোগদানের নির্দেশ দেয়। এই অপরিকল্পিত ও অস্বচ্ছ বদলি প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিকিৎসকরা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত কেবল স্বাস্থ্য দপ্তরের পুরানো নির্দেশটি বাতিল করাই নয়, বরং তা অবৈধ বলেও ঘোষণা করেছে।
এই রায়ের ফলে দেবাশিস হালদার ও আশফাকুল্লা নাইয়ার তাঁদের যোগ্যতা ও নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজেই সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই রায় শুধুমাত্র দুই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং স্বাস্থ্য দপ্তর কর্তৃক প্রশাসনিক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে, অতীতে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করার যে অভিযোগ স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে উঠেছিল, এই আদালতের হস্তক্ষেপ সেই বিতর্ককেও নতুন মাত্রা দিয়েছে।