‘সোনার খনি’র হদিশ ইডির হাতে, কোন কোন ভুলে গ্রেফতার হলেন হেভিওয়েট সুজিত বসু?

রাজ্যের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যে ‘সোনার খনি’র সূত্র মিলেছিল, তার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। মূলত সুজিত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে গোয়েন্দাদের নজরদারি এবং একাধিক অসঙ্গতিই প্রাক্তন মন্ত্রীর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেস্তোরাঁর আড়ালে আর্থিক নয়ছয় ও ‘ভুয়ো’ পরিকাঠামো

সুজিত বসুর গ্রেফতারির নেপথ্যে সবথেকে বড় ক্লু মিলেছে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ থেকে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই রেস্তোরাঁটি ছিল কার্যত একটি ‘শেল কোম্পানি’। সেখানে কোনো খাবার টেবিল বা সচল কিচেন ছিল না, অথচ নথিপত্রে লেনদেন চলত নিয়মিত। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ কালো টাকা এই রেস্তোরাঁর মাধ্যমেই সাদা করা হতো। এছাড়া তারাতলায় সুজিত ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া তিন কোটি টাকাও প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সাজাতে গোয়েন্দাদের বিশেষ সাহায্য করেছে।

নিয়োগে কারচুপি ও ওএমআর শিট জালিয়াতি

তদন্তে উঠে এসেছে যে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র গ্রুপ-সি বা গ্রুপ-ডি নয়, এমনকি ঝাড়ুদার, গাড়িচালক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগেও ছিল দুর্নীতির ছায়া। অভিযোগ উঠেছে, অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে ওএমআর শিটে (OMR Sheet) ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, তৎকালীন পুর চেয়ারম্যান পাঁচু রায় এবং সুজিত বসুর নির্দেশেই মৌখিক পরীক্ষায় শূন্য পাওয়া প্রার্থীদেরও চাকরি পাকা করা হয়েছিল। এই অকাট্য প্রমাণ এবং আর্থিক অসঙ্গতি মেলাতেই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হতে হলো প্রভাবশালী এই রাজনীতিককে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *