রোলের দোকান থেকে হাজার কোটির মালিক, সুজিতের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক অর্জুন সিং

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এবার তাঁর অতীত ও সম্পত্তির উৎস নিয়ে সরব হলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে সুজিতের ধরা পড়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গলবার অর্জুন সিং দাবি করেন, এটি কেবল শুরু। তাঁর মতে, নিয়োগ দুর্নীতির জাল অত্যন্ত গভীরে এবং এই তদন্তের গতি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছাবে। সুজিত বসুর উল্কাসম উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিধায়ক এদিন কার্যত দুর্নীতির এক নতুন ‘অঙ্ক’ ব্যাখ্যা করেছেন।

রোলের দোকান ও হাজার কোটির মালিকানা

অর্জুন সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, সুজিত বসুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল সামান্য একটি রোলের দোকান থেকে। সেখান থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। অর্জুনের ভাষায়, “যে লোকটা শুধু একটা রোলের দোকান করত, আজ সে হাজার কোটি টাকার মালিক। এটাই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিরহাদ হাকিম ও সুজিত বসুর মধ্যে একটি বিশেষ বোঝাপড়া ছিল, যার মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ দলের শীর্ষ মহলে পৌঁছে দেওয়া হতো।

তদন্তের নিশানায় ৬২টি পুরসভা ও শীর্ষ নেতৃত্ব

সুজিত বসুর গ্রেফতারিকে হিমশৈলের চূড়া হিসেবে উল্লেখ করে অর্জুন সিং দাবি করেছেন, রাজ্যের অন্তত ৬২টি পুরসভার চেয়ারম্যানের এই মুহূর্তে জেলে থাকা উচিত। তাঁর মতে, প্রতিটি পুরসভাতেই নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে এবং অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতি কেবল মন্ত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত এই তদন্তের রেশ যাবে বলে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন। অর্জুনের সাফ কথা, চাকরি চুরিতে জড়িত ছোট-বড় কোনো চোরই শেষ পর্যন্ত পার পাবে না।

অভিযোগের মূলে ওএমআর শিট ও মৌখিক পরীক্ষা

উল্লেখ্য, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওএমআর শিটে কারচুপি করার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় শূন্য পাওয়া প্রার্থীদেরও সুজিতের নির্দেশে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্য ও ইডির পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণ আগামী দিনে নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তকে আরও আগ্রাসী করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *