সামরিক কায়দায় বাংলা দখলের চেষ্টা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন বৈঠক ঘিরে তোপ তৃণমূলের
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। সম্প্রতি কলকাতায় সিআরপিএফ সহ পাঁচটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক নজিরবিহীন বৈঠককে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র আধিকারিকদের এই সম্মিলিত উপস্থিতিকে রাজনৈতিক মহল গতানুগতিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
নজিরবিহীন মোতায়েন ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। গড়ে প্রতি ১৪০ জন ভোটারের জন্য একজন জওয়ান থাকছেন, যাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কাশ্মীর বা মণিপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে এনে বাংলায় মোতায়েন করার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শন এবং সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করা।
নিরাপত্তা বনাম রাজনৈতিক অধিকার
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিআইএসএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ বাহিনীর উপস্থিতি কেবল শান্তি রক্ষা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির কৌশল হতে পারে।
এক ঝলকে
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অতীতের নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখেই এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কলকাতায় ৫টি কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে, যা গত নির্বাচনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ।
তৃণমূলের দাবি, কাশ্মীর-মণিপুর থেকে বাহিনী এনে বাংলায় মোতায়েন করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।