লাখ টাকার কোচিং ও নামী স্কুলে পড়াশোনা, ইউপিএসসিতে ইডব্লিউএস সংরক্ষণ নিয়ে বড় প্রশ্ন!
ভারতের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডব্লিউএস) জন্য সংরক্ষিত কোটার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় বার্ষিক আট লক্ষ টাকার কম আয়ের সাধারণ শ্রেণির পরিবারদের সহায়তা করার কথা থাকলেও, ২০২৫ সালের পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০৪ জন ইডব্লিউএস প্রার্থীর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তদন্তে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অভাবী প্রার্থীর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা এই কোটার সুবিধা ভোগ করছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, নির্বাচিত ১০৪ জনের মধ্যে ৮৪ জন প্রার্থী নামী বেসরকারি কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যার মধ্যে অনেকের বার্ষিক ফি আড়াই থেকে পৌনে তিন লক্ষ টাকা। এছাড়া ৪৬ জন প্রার্থী ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ১০ জন উচ্চ বেতনের বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে প্রস্তুতির জন্য এসেছিলেন। যদিও এই কোটার মাধ্যমে একজন নিরাপত্তারক্ষী, এক স্কুলবাস কন্ডাক্টর ও এক প্রাক্তন কুলির সন্তানের মতো প্রকৃত মেধাবীরাও সফল হয়েছেন। তবে শুধুমাত্র আয়কর রিটার্ন বা স্বঘোষিত নথির ভিত্তিতে সনদ প্রদানের ফলে সৃষ্ট এই পদ্ধতিগত ফাঁকফোকরের কারণে প্রকৃত দরিদ্র মেধাবীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন আমলা ও বিশেষজ্ঞরা এই শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে আরও কঠোর এবং গভীর যাচাই প্রক্রিয়া চালুর দাবি তুলেছেন।