রেকর্ড মার্জিনে ফিরছে ঘাসফুল শিবির, শাখাওয়াতে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিলেন ফিরহাদ হাকিম!
রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা, অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আগামীকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ফলাফল। এই অগ্নিপরীক্ষার প্রাক্কালে কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত দাবি করলেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের প্রার্থী তথা হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম। কেবল জয় নয়, বরং গতবারের চেয়েও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরছে বলে তাঁর দাবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন—এমন জোরালো বার্তা দিয়ে বিরোধীদের কার্যত স্নায়ুর চাপে রাখার কৌশল নিলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ সেনাপতি।
রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস ও ‘পড়াশোনার’ সমীকরণ
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সময় ফিরহাদ হাকিমের শরীরী ভাষায় ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস। গণনার আগে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ কৌতুকভরে একটি ঘরোয়া উপমা ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, “সারা বছর যারা পড়াশোনা করে, পরীক্ষার আগে তাদের কোনো চিন্তা থাকে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের বছরভর নিবিড় জনসম্পর্ক এবং তৃণমূল স্তরে কাজের ধারাবাহিকতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদের এই ‘পড়াশোনা’র তত্ত্ব আসলে বিরোধী শিবিরের ভোট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে কটাক্ষ করার একটি সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা। এই আত্মবিশ্বাস দলের কর্মীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
চতুর্থ দফার স্বপ্ন ও আগামীর প্রশাসনিক প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থবারের জন্য মসনদে বসার দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। ফিরহাদ হাকিম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এবারের জনাদেশ কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং উন্নয়নের পক্ষে এক বিশাল গণবিস্ফোরণ হতে চলেছে। এই বিপুল জয়ের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে আগামীর প্রশাসনিক কাঠামোয়। যদি মার্জিন বা আসন সংখ্যা ফিরহাদের দাবি অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়, তবে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্য আরও সুসংহত হবে। অন্যদিকে, এই উচ্চাশা যদি কোনো কারণে হোঁচট খায়, তবে তা শাসকদলের অন্দরের সমীকরণেও বড় রদবদল ঘটাতে পারে। আপাতত শাখাওয়াতের কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা ইভিএম-এর রায় কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ফিরহাদের এই বিশ্বাসের সার্থকতা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।