গণনায় লিড বজায় রাখতে তৃণমূলের ‘বিশেষ কৌশল’, পাল্টায় সতর্ক বিজেপি

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর রণকৌশল ততই পরতে পরতে প্রকাশ্যে আসছে। ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণের আগে ভোট গণনার পদ্ধতি নিয়েও এবার শুরু হয়েছে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে শুরুর কয়েক রাউন্ডে লিড বজায় রেখে বিরোধীদের মনোবল ভাঙতে শাসক দল বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোটের ইভিএম নিয়ে তৃণমূলের অঙ্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে গণনার শুরুতেই সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলের ইভিএমগুলি খোলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের বড় ভরসা। গণনার প্রথম দিকে এই ইভিএমগুলি থেকে বড় মাপের লিড নিশ্চিত করতে পারলে বিরোধী বিশেষ করে বিজেপি এজেন্টদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রথম কয়েক রাউন্ডে শাসক দল অনেকটা এগিয়ে থাকলে বিরোধীদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে, এমনকি এজেন্টরা গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলেও এক পক্ষ মনে করছেন। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ করে গণনাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই শাসক শিবিরের অন্যতম লক্ষ্য।

এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি

শাসক দলের এই কৌশলের বিপরীতে বিজেপিও তাদের কর্মীদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে টিকে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের প্ররোচনায় পা না দিয়ে এবং প্রাথমিক ফলাফলে হতোদ্যম না হয়ে প্রতিটি রাউন্ডের হিসেব নিপুণভাবে মেলাতে হবে। কোনোভাবেই গণনাকেন্দ্রের রাশ যেন আলগা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য একইসাথে কর্মীদের শান্ত ও সংযত থেকে জয় উদযাপনের বার্তা দিয়েছেন।

আগামীকাল রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হবে এই গণনা পর্ব। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল স্বচ্ছতার সাথে ঘোষণা করতে তারা বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক এই মেরুকরণ ও কৌশলের লড়াই শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *