রুশ-ভারত সামরিক চুক্তির আবহে এবার দিল্লির পথে হাঁটল ইউক্রেন!
রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক রসদ বিনিময় সংক্রান্ত ‘রিলস’ (RELOS) চুক্তির ঘোষণার পরপরই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির নথি প্রকাশ করে, যার অধীনে ৩০০০ সৈন্য, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই ঘটনার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতের সঙ্গে একটি বড় মাপের নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলগত ভারসাম্য
ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে পা দিয়ে কিয়েভ এখন অস্ত্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সীমিত হতে থাকা সহায়তার সংকটে ভুগছে। জেলেনস্কির এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া মূলত রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগেরই প্রতিফলন। কিয়েভ মনে করছে, একমাত্র ভারতের মাধ্যমেই রাশিয়ার ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মস্কো এবং কিয়েভ—উভয় পক্ষের সাথেই ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করছে।
শান্তি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা
চুক্তি চূড়ান্ত করার এই ঘোষণার ঠিক আগে ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেক্রেটারি রুস্তম উমেরভ দিল্লিতে অজিত ডোভাল ও এস. জয়শঙ্করের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধের সমাধান কোনো সামরিক উপায়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কিয়েভ সফরের পর থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে নতুন ধারা শুরু হয়েছিল, জেলেনস্কির বর্তমান ঘোষণা তাকেই পূর্ণতা দিতে চলেছে।
এক ঝলকে
- রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘রিলস’ চুক্তির মাধ্যমে সামরিক রসদ ও সরঞ্জাম বিনিময়ের পথ সুগম হয়েছে।
- রাশিয়ার চুক্তির পরদিনই ভারতের সাথে বড় নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন জেলেনস্কি।
- ইউক্রেন বিশ্বাস করে, যুদ্ধ থামাতে এবং রাশিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তারে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- অজিত ডোভাল ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা সচিবের বৈঠকের পর শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।