যুদ্ধবিরতির পরেও কাটছে না মেঘ, আবার কি অশান্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে অবাধে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে না আসায় চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবানন সংকটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে অস্পষ্টতা থাকায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ট্রাম্প জলপথটি উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিলেও, ইরানের দাবি অনুযায়ী প্রণালীটি তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রণালীর ওপর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতির পাশাপাশি ইজরায়েলকে শান্তি আলোচনার বাইরে রাখায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লেবাননে হামলা চালিয়েছেন। এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়ে তেহরানের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না মেলায়, এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *