মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী, মোতায়েন থাকছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল প্রশাসন। এখন থেকে তাঁর সুরক্ষায় রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন থাকবে। সাম্প্রতিক কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে নারাজ কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পক্ষই। মূলত দ্বিমুখী নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে নবান্নের শীর্ষ পদের সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।
আপ্তসহায়ক খুনের পরেই কড়া সতর্কতা
নিরাপত্তা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে গত ৬ মে রাতের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ আততায়ীদের হাতে খুন হন। এই ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নবান্ন সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথ রথের ওপর হামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুভেন্দু অধিকারীর বর্তমান কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী।
যৌথ নিরাপত্তা ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব
সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের হাতে থাকলেও, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর এই যৌথ মোতায়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে তাঁর বাসভবন থেকে শুরু করে নবান্ন এবং বিভিন্ন জেলায় সফরের সময় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এক ধরণের মানসিক স্বস্তিও বজায় রাখবে। প্রশাসনের এই বাড়তি সতর্কতা রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্বকেও প্রতিফলিত করছে।