অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে কঠোর এয়ার ইন্ডিয়া, তিন বছরে চাকরি হারালেন হাজারো কর্মী
বিমান পরিষেবা খাতে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। গত তিন বছরে নৈতিক স্খলন এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এক হাজারেরও বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেছে এই উড়ান সংস্থা। সম্প্রতি সংস্থার প্রধান ক্যাম্পবেল উইলসন এই তথ্য প্রকাশ্যে এনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী কোনো কর্মকাণ্ডই বরদাস্ত করা হবে না।
শাস্তির কবলে পাচার ও লাগেজ জালিয়াতি
বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বেশ গুরুতর। উড়ান সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বিমানে থাকা মালামাল পাচার করা এবং কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিমানে অতিরিক্ত লাগেজ নেওয়ার মতো ঘটনায় এই কর্মীরা জড়িত ছিলেন। আর্থিক জালিয়াতি এবং পেশাগত অসততার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেই এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরই নিয়মভঙ্গের কারণে শতাধিক কর্মীকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিষেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতার বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়া টাটা গোষ্ঠীর অধীনে যাওয়ার পর থেকেই সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং শৃঙ্খলায় আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। এই গণ-বরখাস্তের ঘটনাটি কর্মীদের কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা যে, কোনো ধরণের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা জালিয়াতি করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উড়ান সংস্থার ওপর আস্থা বাড়বে এবং বিমানে পণ্য পরিবহণ ও পরিষেবা সংক্রান্ত অনিয়মগুলো অনেকাংশেই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতেই এই শুদ্ধিকরণ অভিযান চালাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া।