মাঝরাতে ইমেইলে ছাঁটাই! ওরাকল থেকে মেটা— আইটি জায়ান্টদের ‘ডিজিটাল কোপে’ দিশেহারা তরুণ প্রজন্ম

বিশ্বজুড়ে আইটি খাতে ২০২৬ সালের শুরুটা হয়েছে এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। গত তিন মাসে প্রায় ৯৫টি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান তাদের জনবল ছাঁটাই করেছে, যার ফলে কাজ হারিয়েছেন অন্তত ৭৩,২০০ কর্মী। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যেই এই গণছাঁটাই শুরু হয়েছে।

এআই বনাম মানব সম্পদ

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মানুষের মেধার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ওরাকলের মতো জায়ান্ট কোম্পানি একদিনেই প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে ডিজিটাল ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় তৈরি করেছে। মেটা এবং স্ন্যাপ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে হাজার হাজার কর্মীকে অব্যাহতি দিচ্ছে। স্ন্যাপ সিইও-এর মতে, এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে, যা কর্মীদের বেতন কমানোর চেয়েও বড় সাশ্রয় হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ভারতের বাজারে প্রভাব ও ঘোস্ট জবস

বিশ্বের এই অস্থিরতার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি শহরগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হায়দ্রাবাদ ও বেঙ্গালুরুর সার্ভিস-ভিত্তিক কোম্পানিগুলো যেহেতু আমেরিকান ক্লায়েন্টদের ওপর নির্ভরশীল, তাই সেখানে প্রকল্প কমে আসা মানেই স্থানীয় চাকরির বাজার ঝুঁকির মুখে পড়া। অন্যদিকে, বাজারে ‘ঘোস্ট জবস’ বা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির এক নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের চোখে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি সচল দেখাতে অনেক কোম্পানি একদিকে ছাঁটাই করলেও অন্যদিকে নতুন পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এক ঝলকে

  • ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ৭৩,২০০ আইটি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
  • ওরাকল এবং মেটার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় আকারের ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এই সংকটের মূল কারণ।
  • এআই ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *