মমতার দুর্গে ধস, ৯ জেলায় পুরো ‘শূন্য’! উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—২০২৬-এর বঙ্গে কোথায় দাঁড়াল তৃণমূল? দেখুন পূর্ণাঙ্গ ফলাফল
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। দীর্ঘ দেড় দশকের আধিপত্যে ইতি টেনে নজিরবিহীন জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, জঙ্গলমহল থেকে গঙ্গার পাড়—সর্বত্রই ধরাশায়ী হয়েছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি কলকাতার মতো নিরাপদ দুর্গেও ফাটল ধরেছে, যা কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে জাতপাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে উচ্চবর্ণ, মতুয়া, রাজবংশী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিপুল জনসমর্থন পদ্ম শিবিরের পক্ষে গিয়েছে।
জঙ্গলমহলে সবুজ সাফ, উত্তরবঙ্গেও ভরাডুবি
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলমহলে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় একটি আসনও পায়নি ঘাসফুল শিবির। ৪১টি আসনের জঙ্গলমহলে বিজেপি একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও শাসকদলের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল। উদয়ন গুহ বা গৌতম দেবের মতো হেভিওয়েট নেতাদের পরাজয় উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। এমনকি মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতেও আগের বারের তুলনায় বিজেপির শক্তি কয়েক গুণ বেড়েছে।
তৃণমূলের গড় ও শহুরে ভোটে বড়সড় ধস
কলকাতার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন এক বড় চমক। গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে শহর কলকাতায় তৃণমূলের যে একচেটিয়া প্রভাব ছিল, এবার তাতে ভাগ বসিয়েছে বিজেপি। শহরের ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগণার মতো একসময়ের অভেদ্য তৃণমূল গড়েও বড়সড় বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে বিজেপি নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলেও তৃণমূলের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।
এই অভাবনীয় পতনের নেপথ্যে সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত জনরোষ এবং বিরোধী শিবিরের সুসংহত প্রচার কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিপরীতে বিকল্প উন্নয়নের আশ্বাসে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সফল হয়েছে বিজেপি। এই ফলাফলের প্রভাব আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে, যেখানে প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং শিল্পায়নের দাবি আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।