মমতাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন শুভেন্দু, নজিরবিহীন জয়ের সাক্ষী পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় যোগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে দুই কেন্দ্র থেকে জয় এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।

অজয় মুখোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পুনরাবৃত্তি

শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় ১৯৬৭ সালের সেই বহুল আলোচিত নির্বাচনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। সে সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে পরাজিত করা এবং একই সঙ্গে দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়া রাজ্যের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও জয়ী হওয়ার কারণ

শুভেন্দুর এই জয় কেবল একটি আসন জয় নয়, বরং এটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু দল বদলের পর থেকেই নন্দীগ্রামকে নিজের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। জয়ের নেপথ্যে তাঁর ব্যক্তিগত জনভিত্তি, নিবিড় জনসংযোগ এবং বিরোধী ভোটকে একমুখী করার কৌশল বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরাজয় যেমন বর্তমান শাসক শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা, তেমনই শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় বিরোধী শিবিরে তাঁর নেতৃত্বকে আরও প্রশ্নাতীত করে তুলল। দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ের ফলে বিধানসভায় তাঁর প্রভাব ও গুরুত্ব যে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই জয় রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *