বঙ্গবিজয় শেষে শ্যামা প্রসাদের ভিটেয় পদ্ম শিবির, লক্ষ্য এবার সোনার বাংলা গড়া!
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করল বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার ভবানীপুরে তাঁর পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে মাল্যদান করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এবং কেন্দ্রীয় নেতা মঙ্গল পান্ডে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর, এই বিজয়কে দলের তাত্ত্বিক নেতার চরণে উৎসর্গ করতেই তাঁদের এই সফর।
উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক দর্শন
বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির আদর্শকে বড় করে দেখছে গেরুয়া শিবির। ১৯৪৭ সালে অখণ্ড বাংলা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ অবস্থান এবং ভারতীয় ইউনিয়নে বাংলার হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা বজায় রাখার লড়াইকে দলের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৫১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জনসংঘই বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী জয়ের পর তাঁর বাসভবনে যাওয়ার মাধ্যমে বিজেপি মূলত তাদের আদি আদর্শ ও বাঙালি আবেগকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করেছে।
পরিবর্তনের রূপরেখা ও আগামী দিন
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসকে ৮০টি আসনে আটকে রেখে বিজেপি এখন রাজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। বাম ও কংগ্রেস কার্যত ধুয়ে মুছে যাওয়ায় রাজ্যের রাজনীতিতে দ্বি-মেরুকরণ স্পষ্ট হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে ‘সোনার বাংলার নতুন ঊষা’ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘পূর্ব ভারত রূপকল্প’-এর বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নকে ‘বিকশিত ভারত’-এর মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে। এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়নমূলক নীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জনগণের এই রায়কে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি অটল আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব।