ভোট লুটের অভিযোগে অনীহা পরাজিতদের, দলনেত্রীর নির্দেশেও আইনি লড়াইয়ে নারাজ তৃণমূলের ২০৩ প্রার্থী!
বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিলেও, অধিকাংশ পরাজিত প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত আদালতের পথে হাঁটেননি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৪৫ দিনের আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা গেছে, পরাজিত ২১১ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র আটজন প্রার্থী কলকাতা হাই কোর্টে ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করেছেন। এই আটজনের মধ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন। বাকি ২০৩ জন পরাজিত প্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ না হওয়ায় শাসকদলের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কৌশলের ভিন্ন এক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পরাজয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। দলীয় নেতৃত্বের কঠোর বার্তার পরেও দলের অন্দরের এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে পর্যাপ্ত অকাট্য প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই নিয়ে সংশয় কাজ করেছে। অনেক প্রার্থীই মনে করেছেন, আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় সমন্বয় বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছিল না। এমনকি স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত বহু প্রার্থীও ব্যক্তিগত ঝুঁকিতে আইনি জটিলতায় জড়াতে রাজি হননি। সব মিলিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি মিলিয়ে হাই কোর্টে মোট ১৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব ও রাজনৈতিক আত্মসমর্পণেরই ইঙ্গিত দেয়।