ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র পান্ডুয়া! গভীর রাতে রেলের বুলডোজার, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারালেন শতাধিক পরিবার

পান্ডুয়া: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির পান্ডুয়া। গত ২৯ এপ্রিল এই এলাকায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর ভোট মিটতেই রাতের অন্ধকারে পান্ডুয়া রেলপাড় এলাকায় বুলডোজার নিয়ে অভিযানে নামল রেল কর্তৃপক্ষ। আচমকা এই উচ্ছেদের জেরে মুহূর্তের মধ্যে ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।

ভোট মিটতেই কেন এই তড়িঘড়ি?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক আগেই রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ভোট না মেটা পর্যন্ত কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ২৯ তারিখ ভোট মিটতেই যেন ছবিটা বদলে যায়। অভিযোগ, ভোটের ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ ৩০ তারিখ নতুন করে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, মাত্র এক দিনের মধ্যে বস্তি এলাকা খালি করতে হবে। আর সেই সময়সীমা পেরোতে না পেরোতেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক ঘরবাড়ি ও দোকান।

আশ্রয়হীন মানুষের কান্না ও ক্ষোভ

হঠাৎ এই অভিযানে ঘরহারা মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পান্ডুয়া রেলপাড় এলাকা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র ভোটের স্বার্থেই আগে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়নি। বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ভোটের আগে আমাদের ঘর দরকার ছিল না, আমাদের ভোটটা দরকার ছিল। এখন ভোট শেষ, তাই আমাদের রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হল।” অনেকেরই অভিযোগ, এক দিনের নোটিশে বিকল্প আশ্রয় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, তাই তাঁদের জিনিসপত্র নিয়ে এখন খোলা আকাশের নীচেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেন এত দ্রুত এই অভিযান চালানো হল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি মেলেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর জন্য কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। উৎসব আর ভোটের ডামাডোলের মাঝে ভিটেছাড়া এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *