ভারতের রহস্যময় গ্রাম যেখানে চলে না দেশের আইন!
হিমাচল প্রদেশের পার্বতী উপত্যকায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত প্রাচীন গ্রাম মালাণা। বিশ্বজুড়ে গ্রামটি ‘প্রাচীনতম গণতন্ত্রের ভূমি’ হিসেবে পরিচিত হলেও এর অভ্যন্তরীণ রীতিনীতি অত্যন্ত কঠোর ও রহস্যময়। এই গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের মহামতি আলেকজান্ডারের বংশধর বলে দাবি করেন এবং ‘কনাশি’ নামক এক বিশেষ ভাষায় কথা বলেন, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রচলিত নেই। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা কোনো বহিরাগতকে স্পর্শ করেন না এবং কেউ তাদের স্পর্শ করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও গ্রাম থেকে আজীবন বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।
স্বতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা ও দেবতার আইন
মালাণায় ভারতীয় সংবিধান বা হিমাচল পুলিশের আইন কার্যত অচল। এখানে যাবতীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করেন স্থানীয় গ্রাম সংসদ, যা ‘জমঘট্টা’ দেবতার নির্দেশে পরিচালিত হয়। ১১ সদস্যের এই সংসদে রয়েছে ‘উচ্চ কক্ষ’ ও ‘নিম্ন কক্ষ’। এমনকি অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও ভেড়ার শরীরে বিষ প্রয়োগের মতো আদিম ও বিতর্কিত প্রথা ব্যবহার করে দেবতার ইচ্ছা জানার চেষ্টা করা হয়। গ্রামের এই নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার কারণে বাইরের শাসন ব্যবস্থার প্রভাব এখানে নগণ্য।
সামাজিক বিধিনিষেধ ও প্রভাব
আধুনিকতার ছোঁয়া হিসেবে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকলেও মালাণায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। এখানকার সামাজিক কাঠামোয় বর্ণপ্রথা ও বিশুদ্ধতার ধারণা অত্যন্ত প্রকট। স্থানীয়রা বহিরাগতদের ‘অশুচি’ মনে করেন, তাই কোনো দোকানে জিনিস কিনলেও সরাসরি হাতবদল করা নিষিদ্ধ। এমনকি রাত ৮টার পর বাইরে বের হওয়া এবং নির্বাচনে নারীদের সরাসরি ভোটদানের অধিকার না থাকাসহ নানাবিধ কঠোর নিয়ম এই জনপদকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই বিচ্ছিন্নতা গ্রামটির রহস্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও এর অধিবাসীদের আধুনিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে।
এক ঝলকে
- হিমাচলের মালাণা গ্রামে বহিরাগতদের স্পর্শ করলে ৫,০০০ টাকা জরিমানা ও গ্রাম থেকে বহিষ্কারের নিয়ম রয়েছে।
- স্থানীয়রা নিজেদের আলেকজান্ডারের বংশধর মনে করেন এবং তাদের শাসন ব্যবস্থা চলে নিজস্ব গ্রাম সংসদের মাধ্যমে।
- এখানে ভারতীয় সংবিধান বা পুলিশের বদলে ‘জমঘট্টা’ দেবতার ধর্মীয় অনুশাসন ও আদিম বিচার ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পায়।
- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই গ্রামে বহিরাগতদের ঘরবাড়ি ছোঁয়া বা স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি পণ্য লেনদেন নিষিদ্ধ।