বোমা মেরে সভ্যতা ধ্বংস করা যায় না, ট্রাম্পকে কড়া জবাব ইরানের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম শিখরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় ও উস্কানিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর, ইরান অত্যন্ত কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ এবং ‘কিবোর্ড প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও পরমাণু হামলার আশঙ্কা

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সরাসরি ইরানের নাম না নিলেও লেখেন, “আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তা আর কখনও ফিরে আসবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি এমনটা করতে চান না, তবে সম্ভবত সেটিই করতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকরা পরমাণু হামলার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু না বলে শুধু জানান, “আপনারাই বুঝে নিন।”

ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং কূটনীতিকরা সরব হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে যে, ইরানের প্রাচীন সভ্যতা থেকে আসা পাল্টা আঘাত ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘকাল মনে রাখবেন। এছাড়া তারা উল্লেখ করে যে, আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে মঙ্গোলীয় আক্রমণ—ইতিহাসের কোনো ধ্বংসযজ্ঞই ইরানকে মুছে ফেলতে পারেনি। একজন ‘উন্মাদের’ হুমকিতে হাজার বছরের এই সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে না।

পাকিস্তানের ইরানি দূতাবাস ট্রাম্পকে সভ্যতার পাঠ দিয়ে লিখেছে:

  • সভ্যতা কোনো রাতারাতি তৈরি হওয়া বস্তু নয় যে বোমা মেরে তা ধ্বংস করা সম্ভব।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্টের সভ্যতা সম্পর্কে কোনো সঠিক জ্ঞান নেই।
  • ভারতবর্ষে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তা শেষ করা ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

মধ্যস্থতার চেষ্টা ও বর্তমান পরিস্থিতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ডেডলাইন বা সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসায় যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। তবে এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষকে বসানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ট্রাম্পের কাছে ডেডলাইন আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তাদের দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ দেশের জন্য শহিদ হতে প্রস্তুত। কোনো চাপের মুখে তেহরান মাথা নত করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • ঘটনা: ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি।
  • ইরানের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ও ‘অসভ্য’ বলে কটাক্ষ।
  • ঐতিহাসিক যুক্তি: আলেকজান্ডার বা মঙ্গোলরা যা পারেনি, ট্রাম্পও তা পারবেন না বলে দাবি ইরানের।
  • মধ্যস্থতা: পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ডেডলাইন বাড়ানোর আবেদন করেছে।
  • বর্তমান অবস্থা: তেহরান শর্ত মানতে নারাজ এবং দেড় কোটি মানুষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *