বিজেপি নেতার সঙ্গে নন্দীগ্রামে ঘোরার অভিযোগ রাজ্যের সিইও অপসারণের দাবিতে কমিশনে তৃণমূল

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়ে মনোজ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী কাজ খতিয়ে দেখার নামে নন্দীগ্রামে গিয়ে বিজেপি নেতার সঙ্গে এলাকা পরিদর্শন করেছেন তিনি।

গত ৫ এপ্রিল নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে যান সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। তৃণমূলের দাবি, সেখানে তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিজেপি নেতা তথা কালীচরণপুর অঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার মহাপাত্রকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। ওই বিজেপি নেতাই সিইও-কে বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি নিয়ে যান এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলো ঘুরিয়ে দেখান বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের সপক্ষে তৃণমূল একটি ছবিও কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সিইও-র ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন চিহ্নিত এক ব্যক্তি, যাকে বিজেপি নেতা বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজ্যের সর্বোচ্চ নির্বাচনী আধিকারিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না এবং তিনি নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন।

সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিইও-র এই আচরণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। তিনি আসলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন এবং বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছেন। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে।

এই প্রেক্ষিতেই মনোজ কুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে দ্রুত সিইও পদ থেকে অপসারণের আবেদন করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি, কেন তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঘুরলেন, সেই মর্মে তাঁকে শোকজ করার দাবিও তোলা হয়েছে।

নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে খোদ নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে ভোটের আগে সিইও-র ভূমিকা নিয়ে এই সংঘাত নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *