বিশাল যুদ্ধজাহাজে একঘেয়ে খাবার? এটাই সত্যি!

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সুশৃঙ্খল খাদ্য ব্যবস্থাপনা: ২১ দিনের খাদ্যচক্রে ১৭,৩০০ বেলার খাবার

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তার সামরিক ক্ষমতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার জন্যও পরিচিত। এই বিশাল রণতরীতে ৫,১০০ জনেরও বেশি নাবিক ও ক্রু সদস্যের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৭,৩০০ বেলার খাবার তৈরি হয়। তবে এই কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে ২১ দিনের একটি কঠোর ‘ফুড সাইকেল’ বা খাদ্যচক্র, যেখানে প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর একই মেন্যু পরিবেশন করা হয়। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাজার হাজার মানুষের খাবারের জোগান সচল রাখতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মাঝসমুদ্রে বিপুল সংখ্যক মানুষের খাবারের জোগান নিশ্চিত করা এক বিশাল লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ। প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর সহায়ক জাহাজ বা বিমানের মাধ্যমে প্রায় ৩,১৭,০০০ কেজি খাদ্যসামগ্রী এই রণতরীতে পৌঁছানো হয়। ২১ দিনের এই নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণের মূল উদ্দেশ্য হলো রসদ মজুত এবং ব্যবহারের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। মেন্যু আগে থেকে নির্ধারিত থাকায় নৌবাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁচামাল মজুত করতে পারে, যা অপচয় রোধে এবং জাহাজের সীমিত স্টোরেজ ব্যবহারে অত্যন্ত কার্যকর।

একসময় মার্কিন নৌবাহিনী ৩৫ দিনের খাদ্যচক্র এবং ১,২০০ ধরণের উপকরণ ব্যবহার করত। বর্তমানে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে উপকরণের সংখ্যা ৫০০-তে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে নাবিকদের খাবারে চর্বি, সোডিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টিগুণের সঠিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের রান্নাঘর বা গ্যালি ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে, যেখানে বিভিন্ন শিফটে কর্মরত কর্মীদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা হয়। গভীর রাতের ডিউটিতে থাকা সদস্যদের জন্য বিশেষ ‘মিডরাটস’ বা মধ্যরাতের রেশনও এর অন্তর্ভুক্ত। পুরুষ নাবিকদের জন্য দৈনিক ২,৮৫০ ক্যালরি এবং নারী নাবিকদের জন্য ২,১০০ ক্যালরি পুষ্টিমান নিশ্চিত করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *