বিজেপির জয় নিয়ে রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ, বাংলা ও অসমে ভোট চুরির নিশানায় কমিশন
পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির অভাবনীয় জয়কে স্রেফ ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সকালে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের সূত্র ধরেই বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। রাহুলের এই মন্তব্য ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংসদ ও বিধানসভায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিতর্ক
রাহুল গান্ধী তাঁর অভিযোগে কেবল পশ্চিমবঙ্গ বা অসমের বিধানসভা নির্বাচনকেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং লোকসভার ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে সংসদের প্রতি ছয়জন বিজেপি সাংসদের মধ্যে একজন ভোট চুরির মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন। তাঁদের সরাসরি ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে অভিহিত করে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি জনমতকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার যন্ত্রকে ব্যবহার করে আসন ছিনতাই করছে। এমনকি হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতেও একই কায়দায় ক্ষমতা দখল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সংকট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার পরাজয়ের পর কংগ্রেসের এই সমর্থন বিরোধী জোটের সংহতি বাড়াতে পারে। মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে অস্বীকার করার পর যখন অন্য কোনো বিরোধী নেতা পাশে দাঁড়াননি, তখন রাহুলের এই পোস্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে একদিকে যেমন জাতীয় স্তরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠবে, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযোগের ফলে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে, যা আগামী দিনগুলোতে সংসদীয় কার্যক্রমেও বড় প্রভাব ফেলবে।