নবান্নে আমলাদের গণইস্তফা, পরিবর্তনের ঝড়ে ভাঙল মমতার সেই ‘কোর টিম’
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিশ্চিত হতেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আমলাদের মধ্যে। এই তালিকায় রয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর মতো হেভিওয়েট নাম। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ ছেড়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থও।
ঘনিষ্ঠ আমলাদের বিদায় ও প্রশাসনিক শূন্যতা
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী—উভয়েই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবসরের পরেও তাঁদের ক্যাবিনেট র্যাঙ্ক বা সচিব পদমর্যাদায় উপদেষ্টার আসনে বসানো হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আমলারা বিদায়ী সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছিলেন, তার আগেই এই অভিজ্ঞ আমলারা তাঁদের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। মূলত নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার আশঙ্কায় এই আগাম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ওএসডি পদেও বড় কোপ
শুধু শীর্ষ উপদেষ্টারা নন, কোপ পড়েছে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ বা ওএসডি পদের ওপর। বর্তমান মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা ইতিমধ্যেই দপ্তরের সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন অবসরের পর নিযুক্ত ওএসডি-দের দ্রুত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর মঙ্গলবারই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত একাধিক ওএসডি পদত্যাগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমলাতন্ত্রের এই গণইস্তফা আসলে ক্ষমতার পালাবদলেরই একটি আবশ্যিক প্রক্রিয়া। বিদায়ী সরকারের অনুগত আমলাদের সরিয়ে নতুন সরকার সাধারণত নিজস্ব পছন্দের দল গঠন করে। তবে এই গণহারে ইস্তফার ফলে প্রশাসনিক স্তরে সাময়িকভাবে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করাই এখন নবান্নের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।