বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা সুব্রত গুপ্তর, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আশ্বস্ত কমিশন
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন রাজ্যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। গণনাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল সন্তোষ প্রকাশ করলেও, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আজ সোমবার বিজয় মিছিলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় বলয় ও দায়বদ্ধতা
সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে প্রোটোকল মেনে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পরবর্তী স্তরে রাজ্য পুলিশ ও সশস্ত্র জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন। নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝাতে সিইও স্পষ্ট করেছেন যে, যদি কোনো স্তরে ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরই নিতে হবে। এছাড়া শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২৪২ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। যদিও পুলিশ পর্যবেক্ষকরা কক্ষের ভেতরে না থেকে শুধু বাইরের আইনশৃঙ্খলা তদারকি করবেন।
বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক সংঘাত
নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণনার ফলপ্রকাশের পর আজ কোনো রাজনৈতিক দলই বিজয় মিছিল করতে পারবে না। আগে সিইও এই সিদ্ধান্তের দায় জেলা শাসকদের (ডিএম) ওপর ছেড়ে দিলেও, শেষ পর্যন্ত শান্তি বজায় রাখতে কমিশনই সরাসরি হস্তক্ষেপ করল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে স্ট্রং রুম পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন কর্মীদের। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির প্ররোচনায় গণনাকেন্দ্রে সন্দেহজনক কার্যকলাপ হতে পারে। অন্যদিকে, কমিশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০ মিটারের মধ্যে জমায়েত রুখতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তৃণমূলের সতর্কতা ও অভিযোগের আবহ
গত বৃহস্পতিবার থেকেই ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থেকে নজরদারি চালান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মীদের সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করার পরামর্শ দেন। তবে কমিশন নজিরবিহীন এই ৯২ শতাংশ ভোটদানের ফলপ্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার, বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ভোট পরবর্তী সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় কি না।