‘ওরা বিরোধী হওয়া অভ্যেস করছে’, গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে তৃণমূলকে কড়া তোপ দিলীপের
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সকালে খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের আক্রমণাত্মক মেজাজ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, নিজের কেন্দ্রে অন্তত এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের কারচুপির অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, শাসক দল আসলে এখন থেকেই বিরোধী আসনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ও তৃণমূলকে কটাক্ষ
খড়গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষ এবারও জয়ের বিষয়ে শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলেন। আজ গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে তিনি বলেন, “খড়গপুরের মানুষ নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই তৈরি করেছেন। শুধু এই কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যেই এবার বিজেপির জয়জয়কার হবে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইভিএম কারচুপির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জবাবে দিলীপের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “হেরে যাবে জেনেই ওরা এখন রাস্তাঘাটে ধরনা দিচ্ছে। এসব তো বিরোধীদের কাজ। ভালোই হয়েছে, ওরা এখন থেকেই বিরোধী হওয়া অভ্যেস করছে।”
নজরকাড়া খড়গপুর সদর ও রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৬-এর নির্বাচনে যে কয়েকটি আসন নিয়ে রাজ্যজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে, তার মধ্যে দিলীপ ঘোষের খড়গপুর সদর অন্যতম। দীর্ঘ প্রচার পর্বে দিলীপ ছিলেন স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে, তবে ভোটের দিন তাঁকে বেশ শান্ত মেজাজে দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, খড়গপুরে দিলীপের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি বিজেপির জন্য বড় সম্পদ। এখন দেখার, ইভিএম খোলার পর দিলীপ ঘোষের এই গগনচুম্বী আত্মবিশ্বাস বাস্তবের মুখ দেখে কি না, নাকি ঘাসফুল শিবির খড়গপুরের সমীকরণ বদলে দিতে সক্ষম হয়।
ফলাফলের অপেক্ষায় বাংলা
বিক্ষিপ্ত কিছু অভিযোগ ও পোস্টাল ব্যালট গণনা নিয়ে বাদানুবাদের মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই রাজ্যের ২৯৩টি কেন্দ্রে গণনা চলছে। প্রাথমিক প্রবণতা বা ‘ট্রেন্ড’ অনুযায়ী দুই শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, দিলীপের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়ে বাংলায় পদ্ম ফোটে, নাকি মমতার ‘হ্যাট্রিক প্লাস’ প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয় গেরুয়া শিবির।