বাংলায় পরিবর্তনের মহাপ্রলয়! ঘাসফুল শিবিরে ধস নামিয়ে নবান্নের পথে পদ্ম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। বেলা ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বইছে গেরুয়া ঝড়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক কেন্দ্রে বড়সড় ধস নেমেছে। বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে ম্যাজিক ফিগার পার করে বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে বিজেপি।
খাসতালুকে ভাঙন ও হেভিওয়েটদের বিপর্যয়
ভোটগণনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৯০টি আসনে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে বিজেপি। বিপরীতে তৃণমূল এগিয়ে মাত্র ৯৭টি আসনে। খোদ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে সুজিত বসু, রাজ চক্রবর্তী এবং দেবাশিস কুমারের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নিজের লিড বজায় রেখেছেন। এমনকি বহরমপুরের মতো দীর্ঘদিনের কংগ্রেস গড়ে পিছিয়ে পড়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে ভাঙড়ে শওকত মোল্লা এবং কিছু পকেটে বাম-আইএসএফ প্রার্থীরা লড়াই দিলেও তা সামগ্রিক ট্রেন্ডে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ।
জেলায় জেলায় গেরুয়া আধিপত্য
বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে জেলাভিত্তিক ল্যান্ডস্লাইড লিড। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বিরোধীদের কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে পদ্ম শিবির। বীরভূম ও পুরুলিয়াতেও বিজেপি অভাবনীয় ফল করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং মেরুকরণের সমীকরণ শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরিয়েছে। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে বাংলায় দীর্ঘ এক দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।