বঙ্গে গেরুয়া ঝড়, একশোর নিচে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় তৃণমূল!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। গণনা শুরুর পর থেকেই রাজ্যজুড়ে হু হু করে এগোচ্ছে বিজেপি, যার ফলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা একশোর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকালের ব্যালট পেপার গণনা থেকে শুরু করে ইভিএম-এর ট্রেন্ড, সবক্ষেত্রেই কার্যত একতরফা লিড বজায় রেখেছে গেরুয়া শিবির।
জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গে একাধিপত্য
বিজেপির প্রথাগত গড় হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গে প্রত্যাশিতভাবেই ভালো ফল করছে দলটি। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও মালদহের মতো জেলাগুলোতে সকাল থেকেই লিড নিচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। সময় যত গড়িয়েছে, তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যবধান তত বেড়েছে। অন্যদিকে জঙ্গলমহলের চিত্রও প্রায় একই। দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে কার্যত ঝোড়ো ব্যাটিং করছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শাসকদলের জনভিত্তিতে বড়সড় ধস নেমেছে।
তৃণমূলের দুর্গে হানা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সবচেয়ে বড় চমক দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্সি বিভাগে, যা দীর্ঘকাল তৃণমূলের অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও বিজেপি অভাবনীয় লিড নিতে শুরু করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিজেপি ১৮৭টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে তৃণমূলের ঝুলি ১০০-র নিচে আটকে যাওয়ার উপক্রম।
বিজেপির এই অগ্রগতির মূলে রয়েছে সুসংগঠিত প্রচার এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া। যদি শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড বজায় থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে ঘাসফুল শিবিরের এই পিছিয়ে পড়া আগামী দিনের বঙ্গ রাজনীতির জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।