বাংলায় চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান যোজনা, ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসায় মিলবে ডিজিটাল সুরক্ষা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার রাজ্যে কার্যকর হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বাংলার লক্ষ লক্ষ দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসেই কার্ড তৈরির সুযোগ
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে আয়ুষ্মান কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সহজতর করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আর সরকারি দফতরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। ‘আয়ুষ্মান অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের স্মার্টফোন থেকেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব। আবেদনকারীকে বেনিফিশিয়ারি হিসেবে লগ ইন করে আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ওটিপি যাচাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য দিয়ে e-KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই ডিজিটাল কার্ডটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যাবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং আয়ের শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। তবে মনে রাখতে হবে, এই যোজনাটি মূলত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য তৈরি। যারা সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত বা নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন, তারা এই কার্ডের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রভাব ও সামাজিক সুরক্ষা
বর্তমানে আকাশছোঁয়া চিকিৎসা ব্যয়ের যুগে এই কার্ড সাধারণ মানুষের জন্য এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। জটিল অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় বড় অঙ্কের খরচের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে অভাবী পরিবারগুলো। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন রাজ্যে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে এবং অকাল মৃত্যু রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূলত সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই ডিজিটাল স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রধান লক্ষ্য।