আসানসোলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলল ঐতিহাসিক দুর্গা মন্দির

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে আসানসোলে এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক বছর তালাবন্ধ থাকার পর অবশেষে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে আসানসোল শহরের বস্তিন বাজার এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী দুর্গামাতা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মন্দির। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল জয়ের পর এই মন্দির পুনরায় চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন

আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, জয়ী হলে তিনি এই মন্দিরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করবেন। জয়ের পরেই তিনি সরাসরি বস্তিন বাজারে পৌঁছে মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করেন। মূলত বিভিন্ন আইনি ও স্থানীয় বিতর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরটি বছরের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত। কেবল দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজার সময়ই সীমিত সময়ের জন্য এখানে উপাসনার অনুমতি মিলত। এখন থেকে মন্দিরটি সারা বছর খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এলাকায় খুশির জোয়ার ও প্রতীকী গুরুত্ব

পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৯টি বিধানসভা আসনেই পদ্ম শিবিরের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মন্দির খোলার এই ঘটনাকে বড় ধরনের প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মন্দির খোলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শত শত ভক্ত সেখানে ভিড় জমান এবং পূজা-অচনায় অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্মিলন নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি অচলাবস্থার অবসান। জয়ের উল্লাসের পাশাপাশি এই মন্দির খোলার মধ্য দিয়ে এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করার পর আসানসোলের এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জয়ের আনন্দে কর্মীরা উচ্ছ্বসিত থাকলেও, শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *