বঙ্গে শুদ্ধ বাংলা ভাষা লোপাট, তৃণমূলকে তুলোধুনো মোদীর!

বর্তমান ডেস্কঃ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান এখন ভাষা ও বাঙালি অস্মিতার লড়াইয়ে উত্তপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা দিতে এবার সরাসরি ‘শুদ্ধ বাংলা’ হারিয়ে যাওয়ার প্রসঙ টেনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার বিজেপির ‘আমার বুথ সবথেকে মজবুত’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি এবং অনুপ্রবেশের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত বাংলা ভাষা খতম হয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই মন্তব্য রাজ্যের শাসকদলের দীর্ঘদিনের ‘আঞ্চলিক আবেগ’ কার্ডের বিপরীতে এক নতুন মেরুকরণের চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং বুথ স্তরের কর্মীদের এই ভাষাগত বিবর্তনকে নির্বাচনী হাতিয়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ভাষা নিয়ে মোদীর কৌশল ও বুথ কর্মীদের টোটকা

প্রধানমন্ত্রী মোদী দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের কারণে বাংলা ভাষার যে ‘পরিবর্তন’ হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে। তাঁর নির্দেশনার মূল দিকগুলো হলো:

  • বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে কথা বলে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করা।
  • প্রবীণদের উচ্চারণ ও বর্তমান প্রজন্মের বা বহিরাগত প্রভাবে পরিবর্তিত উচ্চারণের পার্থক্য স্পষ্ট করা।
  • অনুপ্রবেশের ফলে কীভাবে বাংলার আদি ও শুদ্ধ রূপটি হারিয়ে যাচ্ছে, তা ভোটারদের বোঝানো।
  • মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে আশ্বস্ত করা যে তাঁরা এ দেশেরই অংশ এবং নিরাপদ।

পাল্টা তোপে তৃণমূল ও বাম নেতৃত্ব

মোদীর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী ও শাসক পক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেদের দাবি, যে প্রধানমন্ত্রী নিজে বাংলা জানেন না, তাঁর মুখে শুদ্ধ বাংলার তত্ত্ব হাস্যকর।

তৃণমূলের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রশ্ন তুলেছেন, মোদী নিজে বাংলা না জেনে কীভাবে ভাষার শুদ্ধতা বিচার করছেন? তাঁর মতে, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণা অনুযায়ী বাংলা ভাষায় বহু বিদেশি শব্দের মিশ্রণ রয়েছে, যা একে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মোদীর পুরনো কিছু ভাষাগত ভুলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কটাক্ষ করেছেন। সেলিমের মতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ২০-৩০ কিলোমিটার অন্তর ভাষা ও সংস্কৃতির যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা বোঝার ক্ষমতা বিজেপি নেতৃত্বের নেই।

ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যু বিজেপিকে বেশ চাপে ফেলেছিল। এবার সেই একই অস্ত্রে পালটা আঘাত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চাইছেন যে, তৃণমূল কেবল ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার তাগিদে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে বাংলার মূল সংস্কৃতি ও ভাষাকেই সংকটে ফেলেছে। এই নতুন বয়ান আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

এক নজরে

  • ঘটনা: প্রধানমন্ত্রীর দাবি, অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ‘শুদ্ধ বাংলা’ হারিয়ে যাচ্ছে।
  • অভিযোগ: তৃণমূলের তোষণের রাজনীতির কারণে বাংলা ভাষা খতম হয়ে যাচ্ছে।
  • কৌশল: প্রবীণদের উচ্চারণের ভিডিও তৈরি করে ভাষার পরিবর্তন ভোটারদের দেখানোর নির্দেশ।
  • প্রতিবাদ: তৃণমূল ও বামেদের মতে, মোদী নিজে বাংলা না জেনে ভাষার অবমাননা করছেন।
  • প্রেক্ষাপট: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *