প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন? অগ্নিপরীক্ষার ফলাফল আজ
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী পাঁচ বছরের ভাগ্যবিধাতা কে হতে চলেছেন, সোমবার দুপুরের মধ্যেই তার স্পষ্ট আভাস মিলবে। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় হওয়া ‘ভোট-পরীক্ষার’ ফল আজ। সকাল ৮টা থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে গণনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নে প্রত্যাবর্তন ঘটবে, নাকি দীর্ঘ দেড় দশক পর পুনরায় ‘লালবাড়ি’ অর্থাৎ রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে রাজ্য নিয়ন্ত্রিত হবে—সেই চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়ার অপেক্ষা এখন মুহূর্তের।
পরিবর্তিত জাদুসংখ্যা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা
এবারের নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ভোটগণনা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বাতিল হওয়ায় সেখানে পুনরায় নির্বাচন হবে মে মাসে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা বা ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭-এ। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচন ছিল নজিরবিহীনভাবে শান্তিপূর্ণ। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংস্কার এবং ২৭ লক্ষ মানুষকে ভোটের বাইরে রাখা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বড় কোনো হিংসা বা বুথ দখলের ঘটনা ছাড়াই মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
ভবানীপুরে হেভিওয়েট লড়াই ও সহিংসতার উদ্বেগ
এবারের ভোটের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন, যা রাজনৈতিকভাবে ২০২৬-এর ‘নন্দীগ্রাম’ হয়ে উঠেছে। এখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার এমন সরাসরি লড়াই আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে জনমনে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রবল উদ্বেগ রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, তবুও যুযুধান শিবিরের নেতাদের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও ‘ডিজে’ বাজানোর মন্তব্যে সাধারণ মানুষের মনে অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে।