প্রতিশ্রুতি রাখলেন মমতা, চক্রবেড়িয়ায় জনপ্লাবনে ৮৭ মিনিটের মেগা পদযাত্রা

শনিবারের অনভিপ্রেত পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে রবিবার নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে শক্তি প্রদর্শন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের দিন বিজেপির মাইক প্রচারের জেরে সভা সংক্ষিপ্ত করে যে প্রতিশ্রতি তিনি দিয়েছিলেন, তা পালন করতেই এদিন চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী। বিকেলে শুরু হওয়া এই মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড় এবং উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জনসংযোগ ও রাজনৈতিক বার্তা

চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু করে কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোড হয়ে হাজরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই পদযাত্রায় মমতার সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। ৮৭ মিনিটের এই দীর্ঘ পথে তৃণমূল নেত্রী কেবল হেঁটেই চলেননি, বরং পথের দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জনসংযোগ সারেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুদের উৎসাহ ছিল নজরকাড়া; এমনকি অনেককে হুইলচেয়ারে চেপেই প্রিয় নেত্রীকে দেখতে রাস্তায় ভিড় জমাতে দেখা যায়।

পাল্টা জবাব ও প্রভাব

শনিবার চক্রবেড়িয়ার সভায় বিজেপির ‘মাইক-উৎপাত’ ও সভার কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর যে অভিযোগ মমতা তুলেছিলেন, রবিবারের এই পদযাত্রা ছিল তারই এক নীরব অথচ শক্তিশালী জবাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সভার বদলে সরাসরি রাস্তায় নেমে দীর্ঘ সময় ধরে পদযাত্রা করে মমতা প্রমাণ করলেন যে, প্রচারের বাধা সরিয়ে সরাসরি জনতার দরবারে পৌঁছে যাওয়াই তাঁর মূল রণকৌশল। এই কর্মসূচি ভবানীপুর এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের মনোবল যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি সাধারণ ভোটারদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে এক জেদি নেতৃত্বের বার্তা।

এক ঝলকে

  • শনিবারের সভার বিঘ্ন কাটাতে কথা অনুযায়ী চক্রবেড়িয়ায় ৮৭ মিনিটের পদযাত্রা সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে চক্রবেড়িয়া থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হয় ৫টা ৪২ মিনিটে হাজরা ফায়ার ব্রিগেডের সামনে।
  • পদযাত্রা চলাকালীন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জনসংযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।
  • বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অসভ্যতামি’র অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *