পেট পরিষ্কার হওয়ার পরেও অস্বস্তি! অন্ত্রে জমে থাকা বর্জ্য সরাতে একগুচ্ছ পরামর্শ চিকিৎসকের
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইबीएस বর্তমানে পেটের একটি সাধারণ কিন্তু জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোগের প্রধান উপসর্গ হলো মলত্যাগের পরেও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া এবং সবসময় পেট ভার বোধ হওয়া। হার্ভার্ডের প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট চিকিৎসক সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে আইবিএস-এর এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং অন্ত্রে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করা যায়।
প্রাকৃতিক সমাধান ও খাদ্যাভ্যাস
অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে চিকিৎসক ‘লো-ফোডম্যাপ’ ডায়েট অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা হয় যা গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা তৈরি করে না। এছাড়া আদা বা আদার গুঁড়ো ফুটিয়ে খেলে বমি ভাব ও হজমের সমস্যা দূর হয়। পেপারমিন্ট অয়েল বা পেপারমিন্ট চা অন্ত্রের পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, যা আইবিএস রোগীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি ক্যামোমাইল টি ঘুমের মান উন্নত করার সাথে সাথে পেটের অস্বস্তি কমায়।
নিয়মিত অভ্যাস ও সতর্কতা
চিকিৎসকের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার যেমন ওটস বা কলা খাওয়া জরুরি, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া উভয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া দিনে অন্তত ২ লিটার জল পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল বর্জন করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।
সম্ভাব্য প্রভাব
এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে এবং অন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদী বর্জ্য জমার ঝুঁকি কমে। সচেতন না হলে আইবিএস-এর সমস্যা থেকে দীর্ঘস্থায়ী পেটের ব্যথা ও মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
এক ঝলকে
- আইবিএস-এর প্রধান লক্ষণ হলো মলত্যাগের পরেও পেট ভার থাকা ও গ্যাস হওয়া।
- সমস্যা সমাধানে আদা, পেপারমিন্ট এবং ক্যামোমাইল চা অত্যন্ত কার্যকর।
- পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল ও দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পরিমিত ঘুম অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে।