পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে অশান্তি রুখতে কড়া কমিশন মহিলাদের ঢাল করে গোলমালের ছকে বিশেষ নজরদারি
পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। কমিশন সূত্রে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গিয়েছে, আসন্ন ভোটে অশান্তি পাকানোর জন্য মহিলাদের সামনে রেখে বিশেষ চক্রান্ত করা হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মহিলাদের ঢাল করার ছক ও কমিশনের পাল্টা কৌশল
নির্বাচন কমিশনকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা বুথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এই কৌশল মোকাবিলায় কমিশন অত্যন্ত সতর্ক। নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে মহিলাদের স্পর্শ না করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নারী বাহিনীকে সামনে রেখে কোনও অশুভ আঁতাত যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, তার জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করা হচ্ছে।
ভয়হীন নির্বাচনের অঙ্গীকার
দিল্লিতে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক উত্তপ্ত বৈঠকের পর কমিশনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ ভয়হীন, হিংসামুক্ত এবং প্রলোভনহীন। বুথ জ্যাম করা, ভোটারদের ভয় দেখানো বা ছাপ্পা ভোটের মতো পুরনো অভ্যাসগুলো রুখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। এছাড়া ভোটের সময় বা ভোট পরবর্তী কোনও হিংসা ঘটলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারি
নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। এবারের বিশেষ পদক্ষেপগুলো হলো:
- প্রতিটি বুথে লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
- ক্যামেরা নষ্ট বা রেকর্ডিং বন্ধ করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট বুথে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হতে পারে।
- প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন করার ক্ষমতাও কমিশন প্রয়োগ করবে।
- জেলবন্দি অপরাধীরা যাতে প্রভাব খাটাতে না পারে, সেজন্য প্যারোল স্থগিত এবং সারপ্রাইজ ভিজিটের ব্যবস্থা থাকছে।
সেন্ট্রাল ফোর্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
হিংসা রুখতে বাংলায় রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কমিশন যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একঝলকে
- মহিলাদের সামনে রেখে অশান্তি পাকানোর চক্রান্তের বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা।
- ভোট হবে হিংসা, ভয়, প্রলোভন ও ছাপ্পাবিহীন।
- প্রতিটি বুথে লাইভ ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক; নিয়ম ভাঙলে ভোট বাতিল।
- রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি।
- নির্বাচন পরবর্তী হিংসা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
- জেলের ভেতর থেকে প্রভাব খাটানো রুখতে প্যারোল স্থগিতের সিদ্ধান্ত।