নিউমার্কেটে বুলডোজার তাণ্ডব এবং দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে সরব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা ৬ মে, ২০২৬। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। তবে এবার খোদ তিলোত্তমার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ও দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলার এক হাড়হিম করা অভিযোগ উঠল। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সরাসরি বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুলের নির্দেশ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মধ্য কলকাতায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুলডোজার রাজনীতি ও ভাঙচুরের অভিযোগ

সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একদল উন্মত্ত জনতা ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে একটি বুলডোজার নিয়ে নিউ মার্কেট বা হগ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় তণ্ডব চালাচ্ছে। অভিযোগ, সেখানে থাকা একটি মাংসের দোকান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মার্কেট ইউনিয়ন অফিসটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ‘গুন্ডাগিড়ি’ চালানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে একটি ব্যস্ততম বাজার এলাকায় এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার জেরে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেক ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি সমর্থকরা যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল।” এমনকি সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ এই ঘটনাটি চেপে যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

অন্যদিকে, এই ভাঙচুর নিয়ে স্থানীয় স্তরে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। একাংশের দাবি, যে অফিসটি ভাঙা হয়েছে সেটি একটি অবৈধ নির্মাণ ছিল। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বুলডোজার চালানো এবং ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর নিউ মার্কেট এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *