নারীর সুরক্ষা সংকটে! কেন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পাশ হলো না?
নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক
ভারতে ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও আইনটি নারীর জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রেখেছে, তবে ২০২৬ সালে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে আটকে গেছে। আইনটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে, যা আইনটিকে কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
এই বিতর্কের মূল কারণ হলো ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া। সরকারের নতুন প্রস্তাবে ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৯ সালের মধ্যে আইনটি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল। এতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮০০-র বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নারী সংরক্ষণের আড়ালে সরকার উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো এই প্রক্রিয়ায় তাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে-র মতো দলগুলো সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত ছাড়াই আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। তবে সরকার এটিকে একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংসদে সরকারের সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে, ফলে এটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছে।