ধুলিয়ান হত্যাকাণ্ড, পুলিশের চরম গাফিলতিতে কড়া পদক্ষেপ সিআইডি-র! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডি-র হাতে। একই সঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, এএসআই সুমন্ত দাস এবং শমসেরগঞ্জ থানার এসআই সইফুল আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ় করা হয়েছে এবং ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিংহকে শো-কজ় করে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও সিআইডি তদন্তের কথা ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২৮ অগস্ট ধুলিয়ানের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডলকে (৩৬) রিয়ান আখতার নামের এক যুবক ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্ত্রীর অভিযোগ সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ। গত ২ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার ফিডার ক্যানালের পাশ থেকে সুজিতের বস্তাবন্দি খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরেই ধুলিয়ানের এক নির্জন স্থানে সুজিতকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ টুকরো করে দু’টি সিমেন্টের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে এনে বল্লালপুর ঘাটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেলস খতিয়ে দেখে সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখ নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে দেহের বাকি অংশের খোঁজে স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংসভাবে এই খুন করা হয়েছে। নিচুতলার পুলিশ গুরুত্ব না দেওয়ায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে আইজি (জোনাল) বিভাগীয় তদন্ত করবেন।