দেউলিয়া রাজকোষ বাঁচাতে মরিয়া স্বপন দাশগুপ্ত, আসছে কঠোর সিদ্ধান্ত?

ঋণের ভারে বিপর্যস্ত রাজ্যের অর্থনীতির হাল ফেরাতে বাজেটে কৌশলী পরিকল্পনার অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ

২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শেষে পশ্চিমবঙ্গের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের বোঝা প্রায় ৭০,৬৫৩ টাকা। আগের সরকারের পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেট অনুযায়ী, রাজ্যের আয়ের ২০ থেকে ২৮ শতাংশই ব্যয় করতে হচ্ছে পুরনো ঋণের সুদ মেটাতে। নীতি আয়োগের ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে বাংলা বর্তমানে ১৬তম স্থানে রয়েছে। পূর্বতন সরকারের জমানায় নিজস্ব কর রাজস্বের তুলনায় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এই অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের সোমবার বিধানসভায় পেশ করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই বিপুল ঋণ ও সুদ বাবদ প্রায় ৯৮,০০০ কোটি টাকার দায় মেটানোর চ্যালেঞ্জ থাকছে।

এই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। এর মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে রাজকোষ ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার পরিকল্পনা, পুরনো উচ্চ সুদের ঋণগুলোকে চিহ্নিত করে কম সুদের ঋণে পুনর্গঠন করার জন্য একটি বিশেষ ‘ঋণ পরিচালন সেল’ গঠন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ ও অপচয় রোধে কঠোর ব্যয়সংকোচ নীতি। মূলত এই বাজেটের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার রাজ্যের ক্রমবর্ধমান ঋণের পাহাড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থনৈতিক কৌশল ও কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *